October 23, 2026, 4:12 am
শিরোনাম:
ভারতে উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদ, ঘরহারা হাজারো মুসলিম পরিবার দশমীতে সিঁদুর খেলার আনন্দের মাঝেই নববধূর মৃত্যু বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল আপন দুই ভাইয়ের বাকেরগঞ্জে দুই অটোরিকশাচাপায় বৃদ্ধ নিহত বরিশালে সেফটি ট্যাংকিতে কাজ করার সময় দুইজনের মৃত্যু বাকেরগঞ্জে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে যুবকের আত্মহত্যা বাকেরগঞ্জের নিয়ামতিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়ক সংস্কার, পরিদর্শনে সোহেল ফরাজী বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে এমপি আবুল হোসেন খানকে সংবর্ধনা ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে ১৫ বছর প্রতারণা, বাবুগঞ্জে কথিত চিকিৎসককে জরিমানা জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান

কালীগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর দখলে ইউনিয়ন পরিষদ, প্রশাসন নিরব

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিনিধি।। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার এবং তার স্বামী মামুনের দখলে থাকলেও প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে তুলেছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, যিনি তার স্বামী মামুনকে পাশে বসিয়ে উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করেছেন। সচেতন মহল এই বিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর পরিপন্থী। এই আইনের আওতায় পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে সচিব পদের পরিবর্তন করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) বেলা ১০ টার সময় সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার স্বামী মামুনকে পাশের চেয়ারে বসিয়ে নিশ্চিন্তে অফিসের ফাইলে কাজ শুরু করেছেন এবং আগত সেবা প্রার্থীদের সেবা প্রদান করছেন। অফিসের অন্যান্য কেউ বা সরকারি চাকুরীজীবী না হলেও বহিরাগত নাম কিছু কার্যক্রম করতে দেখা গেছে, যা আইনগতভাবে সরকারি চাকরির আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার অধিকাংশ সময় অফিসে না এসে বরং তার পরিবর্তে স্বামী তথা বহিরাগতকে অফিসের দাপ্তরিক কাজ করতে দিচ্ছেন। জন্ম নিবন্ধনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় দাপ্তরিক কাজে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তথ্যপ্রযুক্তির ওটিপি/পাসওয়ার্ড ব্যবহারের অনুমতি থাকার কথা থাকলেও চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে, নিজেই চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে ওটিপি ব্যবহার করে দাপ্তরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল লোপাট ও অনিয়ম করে আসছেন।

পরবর্তীতে যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত বা প্রমাণিত হয়, তবে চেয়ারম্যানকেই এর দায়ভার বহন করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারের কারণে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে দুজন উদ্যোক্তা থাকলেও একজনকে ছুটি পাঠিয়ে, অন্যজনকে কাজবিহীন বেকার টেবিলে বসিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, “প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার এবং তার স্বামীর দুর্ব্যবহারের কারণে আমরা অফিস করতে বা কোন কাজ করতে পারি না।” শামীম মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে সমস্ত দাপ্তরিক কাজের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার আয় করছেন। নাম প্রকাশে অচ্ছুৎ একজন সেবা প্রার্থী মেসেজে জানিয়েছেন, জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেককে সরকার নির্ধারিত ফির থেকে বাড়তি ১/২ শত টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও, বয়স কম-বেশি করার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ৫০০ থেকে ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে স্বামী মামুনের বিরুদ্ধে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার সামর্থমানের এক অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিবের প্রভাব খাটিয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন পরিষদটি নিজেদের ইচ্ছেমতো অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করে রেখেছেন। এছাড়াও, আগত সেবা গ্রহীতাগণের সাথে দুর্ব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার সংবাদকর্মীদের জানান, পূর্বের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন থাকাকালীন তিনি কাজ করছেন, তাই কেউ কিছু বলেনি। এ বিষয়ে অএ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিমের সঙ্গে কথা বললে তিনি বললেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা তার এক আত্মীয় সাবেক সচিবের নাম ভাঙিয়ে এবং প্রভাব দেখিয়ে কিছু বলা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলার পরেও কোনো সুরাহা হয়নি। বর্তমানে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যদের নিয়ে তার বদলির জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আবেদন ও অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি আরো জানান, ইউনিয়ন পরিষদে দুইজন উদ্যোক্তা থাকলেও তাদের কাজ না দিয়ে বানিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারকে অপসারণ বা বদলি করে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতির আখড়া থেকে মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নবাসী।