October 23, 2026, 2:18 am
শিরোনাম:

রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক: নথিপত্র গায়েবের শঙ্কায়

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাকেরগঞ্জ |
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গভীর রাতে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের অবৈধ প্রবেশের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৭ এপ্রিল রাতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বহিরাগতদের নিয়ে বৈঠক করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আর্থিক অনিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এক আদেশে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান হাওলাদারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই আদেশে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নীলিমা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নীলিমা আক্তার বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের ছায়া হিসেবে কাজ করছেন।
​
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল রাত ৭:৪৯ মিনিটে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান হাওলাদার বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেন। যেখানে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাবের ফাইল সংরক্ষিত রয়েছে। রাতের অন্ধকারে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এই প্রবেশ মূলত মামলার তথ্য-প্রমাণ নষ্ট এবং নথিপত্র গায়েব করার একটি অপচেষ্টা বলে দাবি করছেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সাবেক নেতৃবৃন্দ।

​ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
সরকারি আদেশ অনুযায়ী বরখাস্তকৃত কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। অথচ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নীলিমা আক্তার ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেও তাকে বাধা দেননি। সচেতন মহলের মতে, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের এই নীরবতা এবং সহযোগিতা মূলত তার “ভারবহনের অযোগ্যতা” এবং সরকারি আদেশের সুস্পষ্ট অবমাননা।

এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
​এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা চিরতরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগীগণ।