October 23, 2026, 3:39 am
শিরোনাম:

বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের ফাঁদে ‘হানি ট্র্যাপ’, ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে আটকে নির্যাতন: গ্রে*প্তা*র-২

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে বাসায় ডেকে এনে ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে বরিশালে একটি ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের বাসা থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বরিশাল নগরীর রূপাতলী সোহরাব হাউজিং এলাকার আহমেদ মোল্লা সড়কের ব্যাংকার্স গলির বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার এবং তার স্বামী কাওরান ইসলাম আকাশ। তাদের মধ্যে আকাশকে চক্রটির মূল হোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয়দিন আগে নগরীর রূপাতলী এলাকায় ‘বুশরা মঞ্জিল’ নামের একটি ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নেন সুমাইয়া ও আকাশ। এরপর থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা কৌশলে বাসায় ডেকে এনে প্রলোভন, ভয়ভীতি ও নারী নির্যাতন মামলার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করছিল চক্রটি।

ভুক্তভোগী মো. ইউসুফ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। তিনি জানান, নগরীর কাশিপুর এলাকায় সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে বাসার বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে তাকে রূপাতলীর ওই বাসায় যেতে বলা হয়।

ইউসুফ বলেন, গত ৫ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সহকারী মোতাহারকে নিয়ে ওই বাসায় যাই। সহকারীকে নিচে মোটরসাইকেলের কাছে রেখে আমি তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে উঠি। তখন ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই যুবক আমাকে দেখে আগেই ওপরে উঠে যায়। তখন থেকেই আমার সন্দেহ হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, ঘরে ঢোকার পরপরই দরজা বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে সুমাইয়ার স্বামী আকাশ সেখানে এসে নির্যাতনে যোগ দেয়।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, কিছুক্ষণ পর চক্রের এক সদস্য তার মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে নিচে থাকা সহকারী মোতাহার এগিয়ে যান। তখন তাকেও জোর করে রুমে আটকে রেখে মারধর করা হয়।

ইউসুফ বলেন, প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আমাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। পরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২৩ হাজার টাকা দেওয়ার পর তারা আমাদের ছেড়ে দেয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কাওরান ইসলাম আকাশকে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসতিয়াক মামুন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের বাসা থেকে সুমাইয়াকে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশি চালিয়ে কিছু গাঁজা ও আট পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া নিজেও মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, “ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অন্যটি হানি ট্র্যাপ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায়। মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আটক অপর এক নারীর বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, চক্রটি আরও কয়েকজনকে একই কায়দায় ফাঁদে ফেলেছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।