October 23, 2026, 5:39 am
শিরোনাম:
ভারতে উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদ, ঘরহারা হাজারো মুসলিম পরিবার দশমীতে সিঁদুর খেলার আনন্দের মাঝেই নববধূর মৃত্যু বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল আপন দুই ভাইয়ের বাকেরগঞ্জে দুই অটোরিকশাচাপায় বৃদ্ধ নিহত বরিশালে সেফটি ট্যাংকিতে কাজ করার সময় দুইজনের মৃত্যু বাকেরগঞ্জে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে যুবকের আত্মহত্যা বাকেরগঞ্জের নিয়ামতিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়ক সংস্কার, পরিদর্শনে সোহেল ফরাজী বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে এমপি আবুল হোসেন খানকে সংবর্ধনা ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে ১৫ বছর প্রতারণা, বাবুগঞ্জে কথিত চিকিৎসককে জরিমানা জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান

বরিশালে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিশোর্ধ্ব যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

Reporter Name

নিজস্ব সংবাদদাতা বরিশাল।
বরিশালের মুলাদীতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আল আমিন হাওলাদার (২৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আল আমিন হাওলাদার ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে। এ ঘটনায় নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার ও শাহাবুদ্দিন ঘরামীকে আটক করেছে পুলিশ।

মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের সালাম পন্ডিতের ছেলে নোমান পন্ডিত (৩৫), দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আক্তার ওরফে নান্নু সরদারের ছেলে আজিজুল সরদার (২৭), লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ আকনের ছেলে কাওসার আকন (৪৫) ও আলী ঘরামীর ছেলে শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ ৪-৫ জন মিলে আল আমিন হাওলাদারকে হত্যা করেছে।

মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহতের ভাই আসিফ হাওলাদার জানান, রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদার তাদের বাড়িতে যান। তারা দুজন আল আমিনকে পাওনা টাকা দেবেন বলে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। পরে তারা আল আমিনকে মোটরসাইকেলে করে নোমান পন্ডিতের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানে নোমান পন্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শাহাবুদ্দিন ঘরামীসহ কয়েকজন আল আমিনকে মারধর ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মৃত ভেবে তারা আল আমিনকে পার্শ্ববর্তী বিলের মধ্যে ফেলে দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসিফকে মোবাইলে জানান। পরবর্তীতে তিনি লোকজন নিয়ে নোমান পন্ডিতের বাড়ির পাশ থেকে তার ভাইকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক মো. কামরুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, তার ভাই এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। প্রায় ১৫-২০ দিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন। আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নোমান পণ্ডিত, আজিজুল সরদার, কাওসার আকন, শান্ত হাওলাদারসহ কয়েকজনকে ১০ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। কারাগার থেকে ফিরে তার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি নোমানসহ অন্যদের কাছে টাকা ফেরত চান। পরে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তারা আল আমিনকে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে নিহত আল আমিনকে উদ্ধারের সময় তার স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে নোমান পন্ডিত ও আজিজুল সরদারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে সফিপুর ফাড়ি পুলিশ ওই এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ঘরামীকেও আটক করেন। শাহাবুদ্দিন ঘরামীর বিরুদ্ধে মাদকসহ প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, যুবককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত অন্যান্যদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।