October 22, 2026, 10:42 pm
শিরোনাম:

বাকেরগঞ্জে করখানা ও পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে আসছে কবাই ইউনিয়ন, বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব শত শত পরিবার

Reporter Name

জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ।।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নে করখানা ও পান্ডব নদীর অব্যাহত ভাঙনে দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে ইউনিয়নের আয়তন। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, গ্রামীণ সড়কসহ নানা স্থাপনা। ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে শত শত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের গতি আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিনই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনি বাজার ও কবাই বাজার অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে সতরাজ বাজার। শিয়ালঘুনি গ্রামের অনেক পরিবার একাধিকবার বাড়িঘর সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয়ে নিয়েছেন, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন। শত শত একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার জীবিকা হারিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। গত দুই বছর আগে শিয়ালঘুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কারখানা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয় হারিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা আশ্রয় নিয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বারান্দায়। সেখানে খোলা আকাশের নিচে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। যে কারণে দুর্ভোগে রয়েছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নদীশাসনের স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় অব্যাহত ভাঙনে কবাই ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকেই ছোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, খুব শীঘ্রই কবাই ইউনিয়নের কারখানা ও পান্ডব নদীর ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।