October 22, 2026, 10:40 pm
শিরোনাম:

আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার, ধ্বসে পড়ার শঙ্কায় স্কুলে যাতায়তের পথ

Reporter Name

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন সরিকল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ’র তীরবর্তী মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দারা। গত দুই বছরে নদীর তীব্র ভাঙনে শত শত পরিবার বসতভিটে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। নতুন করে গত এক মাসের ব্যবধানে পাঁচটি পরিবারের বসতভিটে নদীগর্ভে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনেকেই এখন সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন সড়কের উপরে।

অপরদিকে আড়িয়াল খাঁ’র শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল, মোল্লার খাল, পালরদী নদীর শাখা গৌরনদী বন্দর থেকে ধামুরা খালের দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারনে দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়তের একমাত্র ব্রীজ ও রাস্তা ধ্বসে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙন রোধে কার্যকরি কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, মিয়ারচর লঞ্চ ঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ’র ভাঙনে দুইবার বসতভিটে হারিয়ে অন্যের জমিতে ঘর উত্তোলণ করে বসবাস করতাম। অন্যের দেয়া সেই বসতভিটেও কয়েকদিন আগে নদী গ্রাস করে নিয়েছে। এখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমি নিঃস্ব। মাথা গোজার ঠাই হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করে আসছি।

মিয়ারচরের বাসিন্দা অলিল বেপারী (৭৫) জানিয়েছেন, আড়িয়াল খাঁ’র ভাঙনে শত পরিবার তাদের বসতভিটে ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট পয়েন্টে গত কয়েক বছর ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যত সরকার আইছে সবাই ভাঙন রোধ করবে কইরা কইছে কিন্তু নদী ভাঙন রোধে কেউ এগিয়ে আসে নাই। নদী ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে তিনি জোর দাবী জানিয়েছেন।

শিক্ষক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, গৌরনদী-ধামুরা খালে তীব্র শ্রোতের কারনে তীরবর্তী দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা এরইমধ্যে খালের মধ্যে ধ্বসে পড়েছে। স্কুলে যাতায়তের একমাত্র ব্রীজ ধ্বসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্কুলে যাতায়তের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাবে। বোরাধী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পালরদী নদীর ভাঙনে এরইমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র গিয়ে বসবাস শুরু করেছে। নতুন করে নদী তীরবর্তী রাস্তা ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল পানী উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, মিয়ারচর নদী ভাঙনরোধে একশ’ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা পেয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। অপর অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল স্থানের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।