নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানবাহনের চাপ। কিন্তু সড়কের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত চলাচল, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে মহাসড়কটি এখন যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
প্রতি বছর এই মহাসড়কে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, হারাচ্ছেন জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সক্ষমতা। বিশেষ করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড় বাজার থেকে উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী বন্দর পর্যন্ত অংশটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অংশে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে, যার বেশিরভাগই প্রাণঘাতী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো একক কারণে ঘটে না। সংকীর্ণ সড়ক, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, প্রশিক্ষণহীন চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের মতো নানা কারণ একত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ককে দ্রুত ৬-লেনে উন্নীত করা সময়ের দাবি। তাদের ভাষ্য, প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপ সামাল দিতে বর্তমান সড়ক অবকাঠামো যথেষ্ট নয়। ফলে সড়ক সম্প্রসারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন। এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, “জনগণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে। বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অতিরিক্ত গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ককে ৬-লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের মতো এই সড়কটিকেও আধুনিক ও নিরাপদ সড়ক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে যেমন দুর্ঘটনা কমবে, তেমনি রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ ঝরলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ৬-লেনে উন্নীত হবে? জনদুর্ভোগ ও প্রাণহানির অবসানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বরিশালবাসী।