October 22, 2026, 10:05 pm
শিরোনাম:

১০ বছরের শিশুকে ৩৮ বছরের ব্যক্তির সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদীতে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে গোপালগঞ্জে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। নিখোঁজের কয়েকদিন পর শিশুটির কৌশলী ফোনকলের সূত্র ধরে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

উদ্ধার হওয়া শিশুটির বয়স ১০ বছর। সে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরদিন তার দিনমজুর বাবা গৌরনদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের কয়েকদিন পর গত বুধবার শিশুটি কৌশলে বাবাকে ফোন করে জানায়, তাকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সে অভিযোগ করে, প্রতিবেশী কমল বাড়ৈয়ের মেয়ে মেঘা বাড়ৈ তাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দিয়েছেন।

খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকার খালকুলা গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ নানা প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে ৩৮ বছর বয়সী ভগরত ঢালী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।

শিশুটির স্বজনরা জানান, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়েছিল- “দুই লাখ টাকায় তাকে কিনে নেওয়া হয়েছে।” এমন কথা শুনে শিশুটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ। তিনি বলেন, ওই শিশুকে আমরা বিয়ে দেইনি। সে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। তবে ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিশুটি থানার হেফাজতে রয়েছে। তাকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হবে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন ও বাল্যবিবাহের মতো গুরুতর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।