নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন আলপনা বেগম তন্নী (৩০) নামে এক গৃহবধূ ও তার চার বছরের শিশু সন্তান আলিফ। মা-ছেলের কোনো সন্ধান না মেলায় উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে সময় পার করছে পরিবার। রহস্যজনক এ নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায়ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ আলপনা বেগম তন্নী বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা বাদল মোল্লার স্ত্রী। তিনি একই ইউনিয়নের চরকাউয়া গ্রামের সিকদার বাড়ির মৃত মুন্নাফ আলীর মেয়ে।
পরিবার ও থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু সন্তান আলিফকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হন তন্নী। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাবার বাড়িতে পৌঁছাননি। বিষয়টি প্রথমে পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে নিলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
পরে একই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে স্বামী বাদল মোল্লা স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পান। এরপর তিনি তন্নীর বাবার বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তিনি সেখানে যাননি। পরে আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মা ও শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নিখোঁজ তন্নীর স্বামী বাদল মোল্লা বলেন, স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত তাদের সন্ধান পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী বলেন, নিখোঁজ মা ও শিশুকে উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ৭ দিনেও মা ও শিশুর কোনো সন্ধান না মেলায় স্বজনদের কান্না আর উৎকণ্ঠা যেন থামছেই না। দ্রুত তাদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছে পরিবার।