October 23, 2026, 2:17 am
শিরোনাম:

বাকেরগঞ্জে ১০ ইউনিয়নের প্রধান সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

Reporter Name

মো: জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ।।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক গারুড়িয়া ডিসিরোড সড়ক। সড়কটি সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্থকরন ও শক্তিশালীকরন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাকেরগঞ্জ- গোবিন্দপুর হাট (আরএইচডি বাকেরগঞ্জ-গোকিন্দপুর ভায়া রবিপুর, শিয়ালগুনি-কাকরধা, ভাতশালা, কালিগুরি) পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে স্থানিয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২৩ /২৪ অর্থবছরে ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি-ইটিসিএল (প্রাঃ) লিঃ-মেসার্স আমির ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন ২০২৪ সালের ২৮ মে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করেন। ২০২৬ সালের ২৭ মে সড়কটি সংস্কার কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ এক বছর ধরে সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১০ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কটি পার্শ্ববর্তী উপজেলা বাউফলের সাথেও সংযোগ হয়েছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ফলে প্রতিদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ মাঝপথে থেমে যায়। এতে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে কাদাপানিতে পরিণত হওয়ায় পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য পরিবহনকারী কৃষক এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। যে কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

গারুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা আগে কখনও দেখিনি। বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। শিশুদের স্কুলে পাঠানোও কষ্টকর হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: হাসনাই আহমেদ জানায়, ঠিকাদারের জটিলতার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে।