জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি এলাকায় দুলাল মোল্লার পুত্র শাকিব মোল্লার সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকা প্রতিবেশি জামাল সিকদারের কন্যা মালা নামের তরুণীকে পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েক মাস আগে অন্যত্র বিয়ে দেয়া হয়। তরুণী তার স্বামীকে সাথে ঢাকায় বসবাস করতেন। ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে স্ত্রী মালার সাথে শশুর বাড়ি বেরাতে আসেন চয়ন।
গত ২ জুন মালা ও তার স্বামী চয়নের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মালার পরিবার। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে পাশের বাড়ির শাকিব মোল্লা মালার স্বামী চয়নকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত চয়নকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে এই হামলা ঘটনায় ৩ জুন মালার পরিবার বাকেরগঞ্জ থানায় দাওকাঠি গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে শাকিব মোল্লা, রবিউল মোল্লা এবং বেল্লাল ফকিরের ছেলে হাসিব ফকিরকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৫ জুন শুক্রবার বিকেলে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শ্যামপুর-বাকেরগঞ্জ সড়কের দাওকাঠি মাদারিয়া পাড় এলাকায় মানববন্ধন করে জামাল সিকদারের লোকজন।
মানববন্ধনের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে দুলাল মোল্লা সহ তার পরিবারে শাহানাজ, সুমি, তাসলিমা বেগম ও জাহিদ, মামুন, শাকিব ৭ জনকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ জামাল সিকদারের লোকজন। আহতদের মধ্যে ৪ জন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় জামাল সিকদারের পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে আহত করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দুলাল মোল্লার বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এসময় দুলাল মোল্লার ঘর বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় হামলায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়। পরবর্তীতে বাকেরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনা স্থানে গিয়ে শাকিব মোল্লা সহ অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেন।
দুলাল মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, জামাল শিকদারের লোকজন মানববন্ধন শেষে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে আমার পরিবারের সাতজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তারা আমার বসত ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
জামাল সিকদার বলেন, আমার মেয়ে জামাই সহ আমার পরিবারের ৭ জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে দুলাল মোল্লার লোকজন তাদের নিজ ঘরে আগুন দিয়েছে। আমারা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছি। তারাই আমাদের উপর হামলা করে পরবর্তীতে নিজেদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় আমাদের ফাঁসানোর জন্য।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আদিল হোসেন বলেন, পূর্বের হত্যাচেষ্টা মামলায় রবিউল মোল্লা, শাকিব মোল্লা, জাহিদুল ইসলাম, ইমরান মোল্লা, সুমাইয়া আক্তার সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩ টায় তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।