October 23, 2026, 2:18 am
শিরোনাম:

টিকটকে পরিচয়, কোরআন শরিফ ছুঁয়ে বিয়ে, স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশনে বৈশাখী

Reporter Name

জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল।।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক। একপর্যায়ে পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ নিয়ে বিয়ে করার দাবি। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর গ্রামের বাড়িতে এসে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি জানতে পেরে বিপাকে পড়েছেন বৈশাখী আক্তার। স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশনে বসেছেন তিনি।

ঘটনাটি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের লক্ষ্মী বর্ধন গ্রামের। বৈশাখী আক্তার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার আখরপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করতেন তিনি।

বৈশাখীর দাবি, টিকটকের মাধ্যমে বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা ইউনিয়নের লক্ষ্মী বর্ধন গ্রামের মৃত আমছার আলী খানের ছেলে শাওন হোসেন খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের সময় শাওন পবিত্র কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ করেছিলেন, তাঁর বাড়িতে অন্য কোনো স্ত্রী নেই বলে দাবি বৈশাখীর।

বৈশাখীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর তাঁরা চট্টগ্রামের একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন। তবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁকে না জানিয়ে শাওন গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জে চলে আসেন। এরপর থেকে বৈশাখীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি।

এ অবস্থায় গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে শাওনের গ্রামের বাড়ি দুর্গাপাশায় আসেন বৈশাখী। সেখানে এসে শাওনের ঘরে স্ত্রী ও সন্তান দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। বৈশাখীর উপস্থিতি টের পেয়ে শাওন বাড়ি থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ তাঁর।

পরে শাওন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বৈশাখীকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন শুরু করেন বৈশাখী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৈশাখী আক্তার বলেন, “ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ওপর ভরসা করে আমি শাওনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছি। বিয়ের সময় তিনি কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ করেছিলেন, তাঁর বাড়িতে কোনো স্ত্রী নেই। এখন আমি আমার প্রাপ্য স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা চাই।

তবে এ বিষয়ে শাওন হোসেন খান ও তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৈশাখী শাওনের বাড়িতে আসলে শাওন খান পালিয়ে যায়। শাওনের পরিবারের অন্যরা এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।