October 23, 2026, 7:42 am
শিরোনাম:
ভারতে উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদ, ঘরহারা হাজারো মুসলিম পরিবার দশমীতে সিঁদুর খেলার আনন্দের মাঝেই নববধূর মৃত্যু বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল আপন দুই ভাইয়ের বাকেরগঞ্জে দুই অটোরিকশাচাপায় বৃদ্ধ নিহত বরিশালে সেফটি ট্যাংকিতে কাজ করার সময় দুইজনের মৃত্যু বাকেরগঞ্জে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে যুবকের আত্মহত্যা বাকেরগঞ্জের নিয়ামতিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়ক সংস্কার, পরিদর্শনে সোহেল ফরাজী বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে এমপি আবুল হোসেন খানকে সংবর্ধনা ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে ১৫ বছর প্রতারণা, বাবুগঞ্জে কথিত চিকিৎসককে জরিমানা জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান

ভারতে উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদ, ঘরহারা হাজারো মুসলিম পরিবার

Reporter Name

বাংলামিডিয়া ডেক্স রিপোর্ট।।
ধর্মীয় স্থাপনা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন??

ভারতে মসজিদ উচ্ছেদ ও মুসলিম পরিবারগুলোর বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আসামের তিন জেলায় সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে এক হাজারের বেশি মুসলিম পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ অপসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Scroll-এর ১৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় বনভূমি দখলমুক্ত করার অভিযানে শত শত পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দুই দিনের অভিযানে ৬০০-এর বেশি পরিবারের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের বসতবাড়ির পাশাপাশি ১০টির বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে মসজিদের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁরা কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাঁদের পূর্বপুরুষদের সেখানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে ২০২৮ সালের সিমহাস্ত কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ, পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবরও প্রকাশিত হয়। পরে মসজিদের একটি মিনার অপসারণের সময় সেটি ভেঙে ভবনের অন্য অংশের ওপর পড়ে ক্ষতি হয় বলে The Indian Express জানায়।

উজ্জয়িনের ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্য, সড়ক প্রশস্তকরণ ও জনস্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে স্থাপনাটির অংশ অপসারণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়; মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রশাসনের পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করেনি।

ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, সড়ক উন্নয়ন এবং নগর পুনর্বিন্যাসের নামে স্থাপনা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়ন ও দখলমুক্তকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে? আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে সমান হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

মসজিদ উচ্ছেদ কিংবা মুসলিমদের ওপর হামলার কোনো ঘটনাকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে, যাচাই ছাড়া কোনো ঘটনাকে পরিকল্পিত ‘মুসলিম নিধন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বদলে নির্ভরযোগ্য তথ্য, তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, সম্পদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল অঙ্গীকার।