October 24, 2026, 11:27 am
শিরোনাম:
দুই সন্তানের কেউ নেয় না বিধবা মায়ের খবর, ছেঁড়া পলিথিনের ঝুপড়িতে কাটে সাফিয়ার জীবন বিয়ের ২০ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগ্‌বিতণ্ডায় পুলিশের জিডি মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে জেলেদের হামলা, পুলিশ আহত মাদরাসায় বলাৎকার বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার, হুঁশিয়ারি ধর্মমন্ত্রীর যুবদল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেফতার ২ যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়ার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার আসামি নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল এসআই ও বিএনপি নেতার বাকেরগঞ্জে দুই ইউনিয়নের সংযোগ সেতু এখন মরণফাঁদ, বন্ধ যানবাহন চলাচল

দুই সন্তানের কেউ নেয় না বিধবা মায়ের খবর, ছেঁড়া পলিথিনের ঝুপড়িতে কাটে সাফিয়ার জীবন

Reporter Name

জিয়াউল হক, বরিশাল।।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। কানে ঠিকমতো শোনেন না, চোখেমুখে স্পষ্ট বার্ধক্যের ছাপ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যে বয়সে সন্তানদের স্নেহ, ভালোবাসা ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার কথা, সেই বয়সে ছেঁড়া পলিথিনে ঘেরা একটি ঝুপড়িতে কাটছে ৭০ বছর বয়সী বিধবা সাফিয়া বেগমের দিনরাত। মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই নেই, নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা নেই, নেই চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য। স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন তিনি। অথচ আজ সেই সন্তানদের কেউই তাঁর খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের পোরাচিনা গ্রামের বাসিন্দা সাফিয়া বেগম। তিনি মৃত ওয়াজেদ আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর থেকেই তাঁর জীবনে শুরু হয় দুঃখ-কষ্টের এক দীর্ঘ অধ্যায়। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর কয়েক বছর পর বড় সন্তানও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর দুই ছেলেকে ঘিরেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, ছেলেরা বড় হলে হয়তো জীবনের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা কমবে। কিন্তু আজ সেই বৃদ্ধ মায়ের শেষ বয়সের সঙ্গী হয়েছে নিঃসঙ্গতা, অভাব আর অনিশ্চয়তা।

ছেঁড়া পলিথিনের নিচে কাটে রাত –
সাফিয়া বেগমের থাকার ঘর বলতে নারিকেল ও সুপারি গাছের পাতা এবং ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি। বৃষ্টি ঠেকানোর মতো টিনের চালাও নেই। কোনো রকমে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করলেও ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে সেই আশ্রয়টুকুও আর নিরাপদ থাকে না। বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়লে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাঁকে। কখনো ছেঁড়া পলিথিন গায়ে জড়িয়ে, কখনো মাথায় ছাতা দিয়ে বসে থাকতে হয়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে আশ্রয় নিতে হয় অন্যের বাড়ির বারান্দায়। যে বয়সে তাঁর একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানোর কথা, সেই বয়সে রাতভর বৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচানোর সংগ্রাম করতে হয় এই বৃদ্ধাকে।

প্রায় ২৫ বছর ধরে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যেই দিন পার করছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝুপড়িটি আরও জরাজীর্ণ হয়েছে, বেড়েছে শরীরের দুর্বলতা। কিন্তু তাঁর ভাগ্যে জোটেনি একটি নিরাপদ ঘর।
ভিক্ষা করেই চলে জীবন স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন সাফিয়া বেগম। এখন বার্ধক্যের কারণে সেই সামর্থ্যও অনেকটাই হারিয়েছেন। তাই জীবনের তাগিদে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান তিনি। দিন শেষে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে খাবারের ব্যবস্থা করেন। কোনো দিন ভিক্ষা না মিললে অনাহারেই কাটে দিন-রাত। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, দুর্বলতা আর নানা শারীরিক সমস্যার মধ্যেও থেমে থাকার সুযোগ নেই তাঁর। কারণ, নিজের খাবারের ব্যবস্থা করার মতো আর কেউ নেই।

দুই ছেলে বিয়ে করে নিজেদের সংসার গড়েছেন। কিন্তু তাঁদের মা সাফিয়া বেগমের অভিযোগ, তাঁর খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। আপনজন থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ বয়সে এসে তাঁকে অন্যের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। যে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে একসময় নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন, আজ সেই মায়েরই দিন কাটছে চরম অভাব-অনটনে।

অসুস্থ শরীর, চিকিৎসার সামর্থ্য নেই –
বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন সাফিয়া বেগম। কানে ঠিকমতো শুনতে পান না, শরীরেও রয়েছে নানা দুর্বলতা। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কিংবা নিয়মিত ওষুধ কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই তাঁর। যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে চিকিৎসার খরচ বহন করা তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব। ফলে অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিদিন খাবারের সন্ধানে বের হতে হয় তাঁকে। নিরাপদ বাসস্থান, পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা জীবনের এই মৌলিক চাহিদাগুলো থেকেও বঞ্চিত তিনি।

শেষ বয়সে একটু আশ্রয় চান সাফিয়া –
সাফিয়া বেগমের জীবন কেবল একজন অসহায় বৃদ্ধার ব্যক্তিগত দুর্ভোগের চিত্র নয়। এটি পরিবার ও সমাজের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। যে মা নিজের জীবনের কষ্ট সহ্য করে সন্তানদের বড় করেছেন, তাঁর শেষ বয়সে নিরাপদ আশ্রয় ও ন্যূনতম জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাওয়া কি খুব বেশি চাওয়া?
একটি নিরাপদ ঘর, দুবেলা খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো জীবনের শেষ সময়টা কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারতেন তিনি। এ অবস্থায় সাফিয়া বেগমের পাশে দাঁড়াতে সরকারি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগ জরুরি।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সাফিয়া বেগমের এখন আর বড় কোনো স্বপ্ন নেই। নেই নতুন করে জীবন সাজানোর প্রত্যাশা। শুধু বাকি দিনগুলো একটু নিরাপদে কাটানোর আকাঙ্ক্ষা। বৃষ্টির রাতে যেন মাথার ওপর ছাদ থাকে, ক্ষুধার্ত পেটে যেন ঘুমাতে না হয়, অসুস্থ হলে যেন চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পেতে না হয়। এই সামান্য চাওয়াগুলোই তাঁর কাছে এখন অনেক বড়।
মানুষে ভরা পৃথিবীতে আপনজনদের কাছেই যাঁর আশ্রয় মেলেনি, সেই সাফিয়া বেগম আজ তাকিয়ে আছেন সমাজের মানবিক মানুষের দিকে। তাঁর এই অসহায় জীবনে কেউ কি বাড়িয়ে দেবেন সহায়তার হাত? কেউ কি নিশ্চিত করবেন জীবনের শেষ দিনগুলোতে একটু নিরাপদ আশ্রয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ?

(অসহায় সাফিয়া বেগমকে সহযোগীতার জন্য বিকাশ নম্বর 01727331372)