October 25, 2026, 12:21 pm
শিরোনাম:
২ মাসে মাদককাণ্ডে ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে পিরোজপুরে মন্দিরের ভূমিতে জামায়াত নেতার ধান চাষ! দখলের অভিযোগ বরিশালে বিস্ফোরণে আহত ৬, গোপনে ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানার মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ হেফাজতে স্বামী বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা পিরোজপুর সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে বাধার অভিযোগ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন বেতাগীতে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার থানার হাজতে বসে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান এসআই সহ দুই জন প্রত্যাহার দুই সন্তানের কেউ নেয় না বিধবা মায়ের খবর, ছেঁড়া পলিথিনের ঝুপড়িতে কাটে সাফিয়ার জীবন বিয়ের ২০ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী

পিরোজপুর সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে বাধার অভিযোগ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

Reporter Name

বাংলামিডিয়া রিপোর্ট।।
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দলটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহ আনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করা হয়। এটি তাঁর বক্তব্য; এ দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাত ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমবার খোঁড়া কবরটি কেউ ভরাট করে দেওয়ায় নতুন করে কবর খুঁড়তে হয়। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কোদাল হাতে সেই কাজ করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন; তবে কোনো পুরুষ স্বজন এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দাফন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পিরোজপুর জেলা জামায়াত দাবি করেছে, তাদের কোনো নেতা-কর্মী দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী ২০০৯ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।