September 12, 2026, 8:06 pm
শিরোনাম:
বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালককে কু’পি’য়ে হ’ত্যা বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতার তাস খেলার ভিডিও ভাইরাল, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি বাকেরগঞ্জে মাদক মামলার আসামি পুলিশ হেফাজতে নিহত স্ত্রীকে নিজের মেয়ে-ভাইঝি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী, পরে বরের টাকা ও গয়না নিয়ে দিতেন চম্পট বরিশালে ময়লার স্তূপে দুই নবজাতকের লাশ, এলাকায় চাঞ্চল্য কারাগারে বাবা, তিন অবুঝ সন্তানকে রেখে উধাও মা বাকেরগঞ্জে মাদক ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৯ আসামি গ্রেপ্তার কলাপাড়ায় মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ২১ বছরের যুবক নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনের দুই মাস করে কারাদণ্ড, দুই ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ

ফতোয়া বনাম বাস্তবতা: ইরানের পরমাণু কৌশলে কি পরিবর্তন আসছে

Reporter Name

বাংলামিডিয়া ডেক্স রিপোর্ট।।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক সংঘাতের পর একটি প্রশ্ন বারবার সামনে এসেছে, তেহরান কেন এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না?

এই প্রশ্নটি শুধু একটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে নয়, বরং বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে।

অন্যদিকে তেহরান ধারাবাহিকভাবে বলছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জারি করা ফতোয়া, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রকে ইসলামি দৃষ্টিতে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আবার এমন ইঙ্গিতও মিলছে যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলালে এই নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ফতোয়া: ইরানের পারমাণবিক নীতির মূল ভিত্তি
ইরানের পারমাণবিক অবস্থানের কেন্দ্রবিন্দু হলো ২০০৩ সালে জারি করা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ফতোয়া।

সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, মজুত কিংবা ব্যবহার ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।’ এ সিদ্ধান্ত শুধুই ধর্মীয় নয়, বরং একটি নৈতিক অবস্থানও, যেখানে নিরীহ মানুষ হত্যাকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
পারমাণবিক বোমা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে না, বরং শহর, জনপদ ও লাখ লাখ নিরীহ মানুষের প্রাণ হরণ করে। ইসলামের যুদ্ধনীতিতে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
তেহরান এই অবস্থানকে শুধু ধর্মীয় নির্দেশনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবেও উপস্থাপন করে আসছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান বারবার এই ফতোয়াকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে যে, তাদের কর্মসূচি নৈতিক ও আইনি সীমার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক বোমা নিয়ে যে বয়ান তৈরি করা হয়েছে, তা গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বকে আতঙ্কিত করার জন্য করা হয়েছে; বাস্তবে এটি একটি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল।

তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

সক্ষমতা আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেই
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে একটি বিষয় প্রায়ই উঠে এসেছে, ইরান প্রযুক্তিগতভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শহীদ হওয়ার এক বছর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছিলেন: ‘ওরা প্রায়ই এটা বলছে যে, আমরা ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেব না! আমরা যদি চাইতাম পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে তাহলে আমেরিকা এতে বাধা দিতে সক্ষম হতো না!’

ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল খাররাজি ২০২৪ সালে আল-মায়াদিন টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সম্পূর্ণ সক্ষম এবং একমাত্র বাধা হলো সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়া। যদি দেশ ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ অনুভব করে, তাহলে পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।”

একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ হাক তালাব। তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের পারমাণবিক নীতি ও ডকট্রিনে পরিবর্তন এবং এর আগে ঘোষিত এ সংক্রান্ত আপত্তিকে উপেক্ষা করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বক্তব্যগুলো ইরানের অবস্থানকে একটি স্থির কিন্তু শর্তসাপেক্ষ কাঠামোর মধ্যে রেখেছে। অর্থাৎ নীতিগতভাবে ইরান পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে, কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে পুনর্বিবেচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়।

ইরান কেন এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেনি
সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন হলো, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরান এখনো কেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেনি?

প্রথমত, ধর্মীয় ও নৈতিক সীমাবদ্ধতা: সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়া এখনো রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রকে ইসলামি দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ হিসেবে দেখা হয়। এই অবস্থান শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক বৈধতার অংশও।

দ্বিতীয়ত, কৌশলগত বাস্তবতা: পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেই যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, ইতিহাস তা পুরোপুরি প্রমাণ করে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ঝুঁকি: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে গেলে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সরাসরি সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা ইরানের জন্য উচ্চমূল্যের সিদ্ধান্ত।

উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম: কৌশলগত অবস্থান
আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)–এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা তাত্ত্বিকভাবে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নির্দেশ করে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি অস্ত্র তৈরির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি কৌশলগত অবস্থান, যার মাধ্যমে ইরান আলোচনায় চাপ তৈরি করছে এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ধরে রাখছে।

এখানে মূল লক্ষ্য হলো, ‘অস্পষ্ট সক্ষমতা’ তৈরি করা, যা প্রতিপক্ষকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে হিসাব করতে বাধ্য করে।

কৌশলগত বাস্তবতা: অস্ত্র মানেই নিরাপত্তা নয়
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারমাণবিক অস্ত্র থাকা মানেই পূর্ণ নিরাপত্তা নয়। তাদের যুক্তি হলো, পাকিস্তান ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানে সহযোগিতা করতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ পারমাণবিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কৌশলগত সিদ্ধান্তে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি।

উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি মেলেনি।

অন্যদিকে রাশিয়া, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী হয়েও ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটো ও পশ্চিমা জোটের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চাপের মুখে রয়েছে। পারমাণবিক শক্তি এখানে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ পুরোপুরি কমাতে পারেনি।

ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র স্বীকার না করলেও ব্যাপকভাবে অঘোষিত পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে বিবেচিত। তবুও ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর মতো তিনটি সামরিক অভিযানে তাদের সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ১৬টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ইরানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। তাদের পঞ্চম নৌবহর, বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, রাডারসহ বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে ইরানের হামলায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, পারমাণবিক শক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না।

নিরাপত্তা বনাম পারমাণবিক অস্ত্র: একটি কৌশলগত বিতর্ক পারমাণবিক অস্ত্রকে ঘিরে একটি পুরনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে, এটাই কি শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?‌ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু অস্ত্র পুরোপুরি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলেও তার শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তাদের যুক্তি হলো,‌ ইরানের ওপর আক্রমণ এমন সময় ঘটেছে যখন পারমাণু আলোচনা চলছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটিতে সই করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে। কিন্তু এবার দ্বিতীয়বারের মতো কূটনীতির মাঝখানে সামরিক পন্থা বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই আগ্রাসন পরিস্থিতি বিশ্বকে যে বার্তা দিয়েছে তা হলো, এখন আর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না! কারণটা কী? কারণ হলো, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা! ‌

১৯৯০-এর দশকে ইউক্রেন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক ভাণ্ডার ত্যাগ করেছিল নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে। ‌কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশটি আক্রমণের শিকার হয়! লিবিয়া তার পারমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগ করেছিল, কিন্তু এরপর কয়েক বছরের মধ্যেই সেখানকার সরকারের পতন ঘটানো হয়। ‌অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া ২০০৩ সালে পারমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং পারমাণু অস্ত্র তৈরি করে।‌ সেই সময় থেকে কোনো দেশই সেখানে আক্রমণ করাতো দূরের কথা, হুমকি দেওয়ার সাহস পর্যন্ত করেনি।

ইরানের ওপর দুইবারের আক্রমণ, চলমান আলোচনা এবং উল্লেখিত তিনটি ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে একটি আশঙ্কা অনেককে ভাবিয়ে তোলে। আর তা হলো,‌ যদি কোনো দেশে পরমাণু অস্ত্র না থাকে, তাহলে দেশটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে!

তবে একই সঙ্গে এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতাও তৈরি করছে, যদি নিরাপত্তার একমাত্র মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায় পারমাণবিক অস্ত্র, তাহলে বিশ্ব নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে।

ইরানের অবস্থান: অটল নাকি পরিবর্তনশীল
ইরান একটি জটিল ভারসাম্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে ধর্মীয় ফতোয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, অন্যদিকে বলা হচ্ছে, চরম নিরাপত্তা হুমকির পরিস্থিতিতে নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

এই দ্বৈত অবস্থানকে তেহরান ‘প্রতিরোধ কৌশল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, যেখানে অস্ত্র না বানিয়েও সক্ষমতার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আতঙ্কে রাখা যায়।

বোমা নয়, কূটনীতি
বিশ্ব ইতিহাসে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে মাত্র একবার, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে। এরপর থেকে এটি আর ব্যবহৃত হয়নি। কারণ এর পরিণতি কেবল একটি দেশ নয়, পুরো মানবসভ্যতার জন্য ভয়াবহ।

এই বাস্তবতায় ইরানের অবস্থান একটি ভিন্ন বার্তা দেয়। তারা বলছে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কেবল পরমাণু অস্ত্র দিয়ে আসে না। বরং প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র, কূটনীতি এবং পারস্পরিক সম্মানও একটি টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারে। এই কারণেই বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন যতটা জোরালো, ইরানের অবস্থান ততটাই স্পষ্ট। তারা এখনো পারমাণবিক বোমার পথে যায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা তাদের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত। যার ফল পাওয়া গেছে অপারেশন ট্রু প্রমিস-থ্রি’র ১০০টি অভিযানে। পশ্চিমা সমর বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে, তারা কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। এ অবস্থায় ব্যর্থতা ঢাকতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। সেক্ষেত্রে ইরান কি তার ফতোয়া ধরে রাখবে নাকি উত্তর কোরিয়ার পথে হাঁটবে, তা সময়ই বলে দেবে।