October 23, 2026, 7:21 pm

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, গ্রেফতার ২

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিনিধি।।
গাজীপুরের গাছা এলাকায় একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় আট বছর বয়সী এক ছেলেশিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কে অবস্থিত দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি ওই মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। মামলার আসামিরা হলেন মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), মোহাম্মদ মিজান (৩৮) ও মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)। তাদের মধ্যে অলিউল্লাহ ইসলাম মাদ্রাসাটির শিক্ষক বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে তিনি ছেলেকে মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে রেখে আসেন। ১৩ অক্টোবর দুপুরে ছেলে বাসায় খেতে এলে গোসল করানোর সময় শরীরের একটি অংশে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে বলে জানায় সে।

এজাহারে বলা হয়, ব্যথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তার মাকে জানায়, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখান। পরে মাদ্রাসার স্টোররুমে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টা এবং ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একই স্থানে নিয়ে শিশুটিকে আবারও যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা কাউকে জানালে মারধরের ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানার পর শিশুটির মা মাদ্রাসায় গিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, শিশুটির মায়ের এক পরিচিত নারীর ১০ বছর বয়সী ছেলেও একই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। ওই শিশুও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছে। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পারেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিশুটিকে চিকিৎসা করানো হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির মা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।