October 28, 2026, 5:53 am
শিরোনাম:
সকাল ৯টার মধ্যে ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়, রাতেও লোডশেডিং পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদা আদায়, পর্যটকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বায়োগ্যাসের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে অসহায় উজিরপুরের প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ঘিরে বরিশালের উপকূলে সতর্কতা, পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত তাশরীফের বাবার ১৭-১৮ বিয়ের দাবি মায়ের, ছেলেকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পান্ডব নদীর ভাঙনে বিলীন পাকা সড়ক, বসতবাড়ি মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বললেন মানিক পশারীর বোন, সাক্ষ্য নিয়ে জানেন না কিছুই

বাকেরগঞ্জে অবাধে অবৈধ বালু উত্তোলন, ১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার

Reporter Name

জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ বরিশাল।।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী থেকে অন্তত ১০টি পয়েন্টে প্রভাবশালী কয়েকটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়ছে কৃষিজমি, বসতভিটা ও নদীতীরবর্তী জনপদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রভাবশালী চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ১৫০ নম্বর বোয়ালিয়া মৌজার খয়রাবাদ নদী, ফরিদপুর ইউনিয়নের ১৩৮ নম্বর চর রঘুনদ্দী এলাকার কারখানা নদী, কলসকাঠি ইউনিয়নের ৫৬ নম্বর উত্তর নারাঙ্গল এলাকার খয়রাবাদ নদী এবং দুর্গাপাশা ইউনিয়নের ১১০ নম্বর তেতুলিয়া নদীতে প্রতিবছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নদীর চর ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিবছর এসব চর ইজারার মাধ্যমে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকলেও চলতি বছরে ইজারা না হওয়ায় সরকার রাজস্ব হারিয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসনের উদাসীনতায় চলতি বছরে এসব চর ইজারা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে ইজারার মাধ্যমে সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়েছে। এদিকে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ইজারার নির্ধারিত পয়েন্টের বাইরেও বিভিন্ন নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০টি ড্রেজার মেশিন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। উত্তোলিত বালু পাইপের মাধ্যমে বিভিন্ন নিচু জমি, পুকুর ও ফসলি মাঠ ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র জড়িত। তাদের দাবি, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে কোথাও কোথাও নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে এবং বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তীরের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে নদীভাঙন বাড়লে কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটাও বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন , ইতোমধ্যে নদীভাঙনের শিকার হয়ে অনেক পরিবার তাদের জমিজমা ও বসতবাড়ি হারিয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ফসলি জমি হারালে তাদের জীবিকা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বসতি গড়ে তোলার ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন তাদের চোখের সামনেই চললেও তা বন্ধে দৃশ্যমান ও স্থায়ী পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুদিন পর আবারও একই কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে শুধু অভিযান নয়, অবৈধ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, ড্রেজার মেশিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উত্তোলনের স্থান শনাক্তকরণ এবং বালু পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নদীভাঙন প্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, যেসব স্থানে নদীর চর প্রতিবছর সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয় সেসব এলাকা ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে তাই চলতি বছরে নির্ধারিত চরগুলো ইজারা দেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাকেরগঞ্জের নদ-নদী রক্ষা, সরকারি রাজস্বের অপচয় ও ক্ষতি রোধ এবং নদীতীরবর্তী মানুষের জানমাল সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসককে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।