নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে মানবিকতার সুযোগ নিয়ে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে এক বৃদ্ধা বিধবার বাড়িতে আশ্রয় নেয় এক নারী ও তার ছেলে। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বৃদ্ধার স্বর্ণালংকার লুটের চেষ্টা করে তারা। বাধা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তিন দিনের মাথায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত মা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে চরমোনাই ইউনিয়নের মকররম প্রতাপ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাফিয়া বেগম (৭০) বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। তিনি ওই গ্রামের মৃত ফুল শরীফের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন একই ইউনিয়নের ইচাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রুমা বেগম এবং তার ছেলে শাকিল। ঘটনার পর তদন্তে নেমে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শুক্রবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীহারা সাফিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন। তার ছেলে ও মেয়ে কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় তিনি একাকী জীবনযাপন করতেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভিক্ষুক পরিচয়ে রুমা বেগম ও তার ছেলে রাতে আশ্রয় চান। মানবিক বিবেচনায় তাদের ঘরে থাকার অনুমতি দেন বৃদ্ধা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে সাফিয়া বেগম ঘুমিয়ে পড়লে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় তিনি জেগে উঠে চিৎকার শুরু করলে ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে তার ওপর এলোপাতাড়ি আঘাত করে মা-ছেলে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। বৃদ্ধার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই অসহায় ও একাকী বৃদ্ধাকে টার্গেট করা হয়েছিল। মানবিকতার সুযোগ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধভাবে লুটপাটের চেষ্টা চালানো হয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার অন্যান্য দিকও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।