September 12, 2026, 6:00 pm
শিরোনাম:
বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালককে কু’পি’য়ে হ’ত্যা বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতার তাস খেলার ভিডিও ভাইরাল, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি বাকেরগঞ্জে মাদক মামলার আসামি পুলিশ হেফাজতে নিহত স্ত্রীকে নিজের মেয়ে-ভাইঝি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী, পরে বরের টাকা ও গয়না নিয়ে দিতেন চম্পট বরিশালে ময়লার স্তূপে দুই নবজাতকের লাশ, এলাকায় চাঞ্চল্য কারাগারে বাবা, তিন অবুঝ সন্তানকে রেখে উধাও মা বাকেরগঞ্জে মাদক ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৯ আসামি গ্রেপ্তার কলাপাড়ায় মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ২১ বছরের যুবক নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনের দুই মাস করে কারাদণ্ড, দুই ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ

বিলম্বিত বিচার অনেক সময় বিচার না পাওয়ারই নামান্তর, সাংবাদিক জিয়াউল হক

Reporter Name

বিলম্বিত বিচার অনেক সময় বিচার না পাওয়ারই নামান্তর, সাংবাদিক জিয়াউল হক

বাংলামিডিয়া ডেক্স রিপোর্ট।।
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা। কিন্তু যখন একটি মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তখন ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও তার পরিবার শুধু মানসিক যন্ত্রণাই ভোগ করেন না, বরং অনেক সময় তারা ন্যায়বিচারের আশা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেন। তাই “বিলম্বিত বিচার অনেক সময় বিচার না পাওয়ারই নামান্তর” এই প্রবাদটি আজ বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশে অসংখ্য মামলা দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সাক্ষীর অনুপস্থিতি, তদন্তে গাফিলতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও নানা আইনি প্রক্রিয়ার কারণে একটি মামলার নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। এতে অপরাধীরা অনেক সময় আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যায়, আর ভুক্তভোগীরা হতাশ হয়ে পড়েন।

বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা মানুষের আইনের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়। অনেকেই ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় মামলা করলেও বছরের পর বছর আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হলে তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, আদালতের আধুনিকায়ন এবং মামলার জট কমাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ন্যায়বিচার শুধু একটি রায় নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আর সেই বিচার যদি সময়মতো না আসে, তবে তা অনেক ক্ষেত্রেই বিচার না পাওয়ার শামিল হয়ে দাঁড়ায়।

একটি ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী যখন ন্যায়বিচারের আশায় দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়ান, তখন সমাজের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে? যদি অভিযুক্ত নিজেই আদালতে অপরাধ স্বীকার করে, তাহলে বিচারে এত দীর্ঘসূত্রিতা কেন?
ধর্ষণ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি একজন মানুষের আত্মসম্মান, মানসিকতা ও জীবনের ওপর নির্মম আঘাত। অথচ আমাদের বিচার ব্যবস্থায় অনেক সময় দেখা যায়, অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি দিলেও মামলার নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর লেগে যায়। এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম হতাশা ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে।

একটি সভ্য সমাজে ন্যায়বিচার শুধু হওয়াই যথেষ্ট নয়, তা দ্রুত হওয়াও জরুরি। কারণ বিলম্বিত বিচার অনেক সময় বিচার না পাওয়ারই নামান্তর।