বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর চরাদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ডাকুয়ার মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়েছে। শূন্য হওয়া এ পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন চরাদী ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম সোহাগ হাওলাদার। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাঁকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির দুর্দিনে চরাদী ইউনিয়নে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন এইচ এম সোহাগ হাওলাদার। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, মিটিং ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করে আসছেন তিনি। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য পদেও রয়েছেন। শুধু বাকেরগঞ্জেই নয়, রাজধানী ঢাকাতেও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
রাজনীতির পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা এবং নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন সোহাগ হাওলাদার। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে চরাদী ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার মাঠ ভরাট সহ নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড করে আসছেন। যে কারণে তিনি এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছেন।
বাকেরগঞ্জের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খানের বিশ্বস্ত ও স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত সোহাগ হাওলাদার। ছোটবেলা থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির প্রতি অনুরাগ থেকে তিনি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবেও এলাকায় পরিচিত তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হলে তাঁর মুক্তির দাবিতে ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল, সভা ও সমাবেশে অংশ নেন সোহাগ হাওলাদার। দলের প্রতিকূল সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খানের পক্ষে চরাদী ইউনিয়নে দিন-রাত পরিশ্রম করেন সোহাগ হাওলাদার। নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ইউনিয়নে দলের পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনে চরাদী ইউনিয়নে বিএনপির পক্ষে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন আদায়ে তাঁর ভূমিকা ছিল।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে চরাদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে সোহাগ হাওলাদারকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ছে। এখন দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করে এইচ এম সোহাগ হাওলাদারকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন জমাদ্দার কে ফোন করা হলে তিনি জানান, চরাদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিহতের পরে কমিটির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে দেখা হবে। তবে দলের দুর্দিনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
এ বিষয়ে মো: সোহাগ হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তাকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।