September 12, 2026, 8:07 pm
শিরোনাম:
বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালককে কু’পি’য়ে হ’ত্যা বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতার তাস খেলার ভিডিও ভাইরাল, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি বাকেরগঞ্জে মাদক মামলার আসামি পুলিশ হেফাজতে নিহত স্ত্রীকে নিজের মেয়ে-ভাইঝি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী, পরে বরের টাকা ও গয়না নিয়ে দিতেন চম্পট বরিশালে ময়লার স্তূপে দুই নবজাতকের লাশ, এলাকায় চাঞ্চল্য কারাগারে বাবা, তিন অবুঝ সন্তানকে রেখে উধাও মা বাকেরগঞ্জে মাদক ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৯ আসামি গ্রেপ্তার কলাপাড়ায় মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ২১ বছরের যুবক নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনের দুই মাস করে কারাদণ্ড, দুই ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ

প্রশাসনিক ভুল সিদ্ধান্তে আবারও বন্ধ ১১ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

Reporter Name

জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ বরিশাল।।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের পর ইউএনওর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সেই নিয়োগ প্রজ্ঞাপন বাতিল করায় আবারও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট মেয়াদ গত ১৭ জুলাই শেষ হয়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও চেয়ারম্যানরা ১ আগস্ট পর্যন্ত পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ না থাকায় নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে নিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় একমাস পার হলেও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নিয়োগে তাদের ব্যর্থ ভূমিকায় দেখা যায়।

নির্দিষ্ট সময়ে প্রশাসক নিয়োগ না হওয়ায় বাকেরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নাগরিক সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এ পরিস্থিতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পালের কিছু সিদ্ধান্তকে দায়ী করে অভিযোগ তুলেছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবরা। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট দৈনিক এদিন পত্রিকায় ‘বাকেরগঞ্জে ইউএনওর স্বেচ্ছাচারিতা ঘিরে ১১ ইউনিয়নে নাগরিক সেবা বন্ধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এর পরদিন, ৯ আগস্ট, তড়িঘড়ি করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উপমা ফারিশা স্বাক্ষর করেন।

প্রশাসক হিসেবে যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, চরাদি ইউনিয়ন পরিষদে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান, দাড়িয়াল ইউনিয়নে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস, দুধল ইউনিয়নে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শেখ তৈবুর রহমান, ফরিদপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, কবাই ইউনিয়নে সরকারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, নলুয়া ইউনিয়নে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ আহমেদ আকন, কলসকাঠি ইউনিয়নে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলাউদ্দিন মাসুদ, গারুড়িয়া ইউনিয়নে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, ভরপাশা ইউনিয়নে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এইচ এম রেজাউল হক, রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ এবং পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।

তবে প্রশাসক নিয়োগের এ উদ্যোগও স্থায়ী হয়নি। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার এক অফিস আদেশে বাকেরগঞ্জ উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে পূর্বে নেওয়া কার্যক্রম বাতিল করা হয়।

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার, বরিশাল) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিশা স্বাক্ষরিত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ওই অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

৯ আগস্ট প্রশাসক নিয়োগ বিষয়টি বাতিল করা হলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখা হয়। যে কারণে নতুন দায়িত্ব পাওয়া প্রশাসকদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০২৪)-এর ১৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগের বিধান রয়েছে। এ বিধানের আলোকে পূর্বে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের এখতিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের।

এ কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভুল সিদ্ধান্তের প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী পূর্বে নেওয়া প্রশাসক নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা আদেশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়েও এর অনুলিপি পাঠানো হয়।

ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ারিশ সনদ নিতে আসা নজরুল কাজি বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবত ইউনিয়ন পরিষদে আসি আর যাই। চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ নেই। ওয়ারিশ সনদ করতে পারছি না।

পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন করতে আসা মারুফা বেগম বলেন, পরিষদে এসে কাউকেই পেলাম না । কয়দিন ধরে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য ঘুরতেছি।

এদিকে প্রশাসক নিয়োগের পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ জরুরি নাগরিক সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালকে ফোন করা হলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করেছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবর্তে দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় হালদার।

প্রশাসক নিয়োগের দেয়ার পর তা বাতিল হওয়ায় এখন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নাগরিক সেবা কীভাবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা চালু করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।