September 12, 2026, 8:08 pm
শিরোনাম:
বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালককে কু’পি’য়ে হ’ত্যা বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতার তাস খেলার ভিডিও ভাইরাল, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি বাকেরগঞ্জে মাদক মামলার আসামি পুলিশ হেফাজতে নিহত স্ত্রীকে নিজের মেয়ে-ভাইঝি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী, পরে বরের টাকা ও গয়না নিয়ে দিতেন চম্পট বরিশালে ময়লার স্তূপে দুই নবজাতকের লাশ, এলাকায় চাঞ্চল্য কারাগারে বাবা, তিন অবুঝ সন্তানকে রেখে উধাও মা বাকেরগঞ্জে মাদক ও অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৯ আসামি গ্রেপ্তার কলাপাড়ায় মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ২১ বছরের যুবক নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনের দুই মাস করে কারাদণ্ড, দুই ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ

আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার: আসামি সোহেল

Reporter Name

ডেস্ক রিপোর্ট।। রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় চার্জগঠন শুনানির দিন আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। আদালতে হাজির হওয়ার সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় অন্য একজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে নিজের স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন।

চার্জগঠন শুনানির দিন আদালতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, আমি শুধু ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। একই সঙ্গে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নির্দোষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়। এর আগে সকাল পৌনে ৮টায় শুনানির জন্য তাদের কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলা হয়।
এ সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।

নতুন নাম আসা ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর বাড়ি, অনেক টাকাওয়ালা। সোহেল রানা এ সময় তার ডিএনএ টেস্ট না নিয়ে অটোমেটিক লেখা হয়েছে বলে দাবি করেন।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুই আসামিকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।

এদের মধ্যে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিয়ে আসে পুলিশ।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মামলার তদন্ত শেষে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আদালত চার্জগঠন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনগতভাবে যা যা করণীয়, তা করা হবে। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি ও সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

আইনজীবীরা বলছেন, নিম্ন আদালতে বিচারকাজ দ্রুত এগোলেও চূড়ান্ত রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি রায় কার্যকর হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে, গত ১৯ মে পল্লবীতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতের আমলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এখন মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারপর্বে প্রবেশ করেছে। চার্জগঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে বিচারকাজ আরও এগিয়ে যাবে।